নরসিংদী থেকে সাতক্ষীরায় ফেরা ১৭০ ইটভাটা শ্রমিক কোয়ারেন্টিনে

নরসিংদীতে ইটভাটায় কর্মরত ১৭০ জন শ্রমিক ট্রাকযোগে সাতক্ষীরার আসার পর আটক হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোডের মোড় থেকে তাঁদের আটক করেন পুলিশ। পরে সবাইকে নিজ উপজেলা শ্যামনগরে কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরায় এসছেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ।

তাঁদের অধিকাংশই ওই সব জেলায় ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ওই জেলাগুলো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন লকডাউন করে রাখা হয়েছে। কাজকর্মও বন্ধ। রাস্তায় গণপরিবহন বন্ধ। তাই অনেকেই ট্রাকে করে সাতক্ষীরায় নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করছেন। এভাবে ফেরা তিন হাজার ১৪৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রেখেছে প্রশাসন। বাকিদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ফেরা ১৭০ জন ইটভাটা শ্রমিকের সবার বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ছয়টি ট্রাকে করে তাঁরা সাতক্ষীরায় প্রবেশ করেন। সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোডের মোড়ে অবস্থিত পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে ট্রাকগুলো থামানো হয়। সবকিছু জানার পর পুলিশ তাঁদের আটক করে জেলা প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে সবাইকে শ্যামনগরে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, এই শ্রমিকদের সবাইকে শ্যামনগরে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্যামনগর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্যামনগরের ইউএনও আবুজার গিফারি বলেন, ১৭০ জন ইটভাটা শ্রমিককে প্রথমে শ্যামনগর সদরের নকিপুর হরিচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে হোম কোয়ারেন্টিন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করতে সবার বাড়িতে লালপতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।